দিঘলিয়ায় টেন্ডারের আড়ালে সরকারি গাছ চুরির অভিযোগ

279899001_714869656373652_2733112572059135487_n.jpg

দিঘলিয়া প্রতিনিধি, ডেইলি সুন্দরবন: খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট এলাকায় টেন্ডারের আড়ালে সরকারি গাছ চুরির ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতি মৃত ও শুকনো গাছ টেন্ডার দিলেও সুস্থ সবল তাজা মূল্যবান গাছ কেটে ফেলেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। এই ঘটনা নিয়ে গোটা উপজেলার সাধারণ মানুষের মাঝে একদিকে যেমন ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে অপর দিকে উপজেলার সর্বত্র হৈচৈ পড়ে গেছে। সরকারি রাস্তার গাছ চোর সিন্ডিকেট সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন উপজেলাবাসি।

আগামী রোববার ১৫ই মে, গাছ চুরির প্রতিবাদে সকালে উপজেলা সদরে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে এলাকাবাসী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল আলম বলেছেন, কেউ অতিরিক্ত গাছ কর্তন করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অপর দিকে এক সূত্র থেকে জানা গেছে, সরকারের কয়েকটা গোয়েন্দা সংস্থা গতকাল সারাদিন অনুসন্ধান করে টেন্ডারের বাইরে শতাধিক গাছ কাটার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। গাছ চুরির অভিযোগে উপজেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসলেও গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সুত্রের ভিত্তিতে জানা যায়, গত ৩ মার্চ দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় হতে গাজীরহাট ইউনিয়নের মাঝিরগাতি থেকে সোনাকুড় সড়কের রাস্তার দু’পাশে অবস্থিত মরা/শুকনো ৩৩৭ টি গাছ প্রকাশ্যে নিলামে কার্যাদেশ পায় এসএম হাবিবুর রহমান তারেক নামের জনৈক ব্যক্তি। তিনি ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ায় তাকে গত ৫ এপ্রিল থেকে ৫ মে ২০২২ তারিখের মধ্যে উক্ত মরা ও শুকনো গাছগুলো কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে উক্ত ঠিকাদার নির্ধারিত মরা ও শুকনো গাছের পাশাপাশি অনেক তরতাজা জ্যান্ত গাছ দিনে—দুপুরে কেটে পাচার করে দেয়। যার আনুমানিক মূল্য কয়েক লাখ টাকা।

এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে অতিরিক্ত গাছ কাটতে বাধা দিলে ঠিকাদার এস এম হাবিবুর রহমান তারেক কারো কথায় কর্ণপাত করেননি। সুধি মহলের ধারনা গাছ কাটার সাথে তারেকের সাথে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জড়িত। এলাকাবাসী অসহায় হয়ে বিষয়টি দিঘলিয়া উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন দপ্তরকে অবগত করেন, যার প্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা বন কর্মকর্তাসহ সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দিনভর অনুসন্ধান করে ঘটনার সত্যতা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেন। দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অতিরিক্ত গাছ কর্তনের প্রমাণ মিলেছে। তাই অধিকতর তদন্তের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমিকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট দাখিল করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top