করোনায় জীবন রক্ষাকারী নতুন চিকিৎসা উদ্ভাবন

image-432603-1623907327.jpg

সারাবিশ্বে করোনা তাণ্ডবের প্রায় দেড় বছর পর গবেষকরা এর চিকিৎসায় খুঁজে পেয়েছেন নতুন পথ। এ চিকিৎসায় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে জোরদার করার পরিবর্তে অ্যান্টিবডি স্যালাইনের মাধ্যমে সরাসরি মানবদেহে প্রবেশ করানো হয়।

উদ্ভাবনকারী প্রতিষ্ঠান ‘রিজেনারন’ এই চিকিৎসার নাম রাখেন ‘মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি ট্রিটমেন্ট’।  এটিকে করোনার বিরুদ্ধে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা পদ্ধতি বলা হচ্ছে।

স্যালাইনের মাধ্যমে শক্তিধর অ্যান্টিবডি মানবদেহের শিরায় প্রবেশ করানোর এ পদ্ধতিটি ভাইরাসকে কাবু করতে অনেকটাই কার্যকরী। এটির পরীক্ষায় দেখা গেছে, করোনায় আক্রান্ত প্রতি তিন রোগীর একজনই এতে ভালো হয়ে উঠেছেন।

এ চিকিৎসায় দেহে প্রবেশ করানো অ্যান্টিবডি করোনাভাইরাসের কোষকে ঘিরে ধরে।  ফলে দেহের অন্য কোনো কোষে করোনাভাইরাস আর ছড়াতে পারে না এবং সংখ্যায়ও বাড়তে পারে না।

বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, করোনার নতুন এ চিকিৎসা দিয়ে আক্রান্তদের প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ছয়জনের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।  মূলত যেসব রোগীর দেহে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো যথেষ্ঠ অ্যান্টিবডি থাকে না বা তৈরি হয় না শুধু তাদেরই এ চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তবে জানা গেছে, এ চিকিৎসাটি হবে অনেকটাই ব্যয়বহুল। এতে খরচ পড়তে পারে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

এই চিকিৎসার ট্রায়ালে অংশ নিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সি কিম্বারলি ফেদারস্টোন। তিনি বলেন, ‘আমার সৌভাগ্য যে, করোনা হওয়ার পর আমাকে যখন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, ততদিনে এই পরীক্ষা চালু হয়ে গিয়েছিল এবং এই যুগান্তকারী পরীক্ষাটিতে আমি অংশ নিতে পেরেছিলাম।

ব্রিটেনের বিভিন্ন হাসপাতালের প্রায় ১০ হাজার করোনা রোগীর ওপর এ চিকিৎসার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়।

এ চিকিৎসা পরীক্ষায় নেতৃত্ব দেওয়া গবেষক স্যার মার্টিন ল্যানড্রে বলেন, দুই ধরনের অ্যান্টিবডি মিশিয়ে স্যালাইনের মাধ্যমে শিরায় প্রবেশ করানো হলে কোভিড রোগীর মৃত্যুর সম্ভাবনা এক-পঞ্চমাংশ কমে যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘কোভিড-১৯’র মারাত্মক অবস্থাতেও রোগীর দেহে ভাইরাসের বিরুদ্ধে যে এই চিকিৎসা কার্যকর হবে এটি খুবই খুশির খবর’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top