ক‌ঠোর নিরাপত্তার মধ্য দি‌য়ে শেষ হ‌লো দিঘ‌লিয়ায় দূর্গা উৎসব।

received_568415537726406.jpeg

দিঘ‌লিয়া প্রতি‌নি‌‌ধি, ডেই‌লি সুন্দরবনঃ প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে‌ছে আজ। এ উপলক্ষ্যে সারা দেশের পুজা মন্ডপগুলোতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। মন্ডপে মন্ডপে পুলিশের পাশাপাশি রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার। মুলত কুমিল্লায় একটি পূজামন্ডপ কোরআন অবমাননার অভিযোগে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।

দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূজা মন্দির পরিদর্শনে

দিঘ‌লিয়া উপ‌জেলা‌তে সরকা‌রি নি‌র্দেশনা মে‌নে, খুলনা জেলা প‌রিষ‌দের দেওয়া নি‌র্দেশ মে‌নে,দিঘ‌লিয়া উপ‌জেলা প্রশাস‌নের সা‌র্বিক সহ‌যো‌গিতাই ও ক‌ঠোর পু‌লি‌শি নিরাপত্তার মধ‌্য দি‌য়ে শেষ হয়ে‌ছে শ‌ার‌দিয় দূর্গা পূজার বিজয় দশ‌মি।

দিঘলিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোয়ালপাড়া স্বার্বজনীন পূজা মন্দির পরিদর্শনে

‌‌দিঘ‌লিয়া উপ‌জেলা নির্বাহী অ‌ফিসার, দিঘ‌লিয়া থানা অ‌ফিসার ইনচার্জ, দিঘ‌লিয়া উপ‌জেলা প‌রিষ‌দের চেয়ারম‌্যান ও দিঘ‌লিয়া উপ‌জেলা প‌রিষ‌দের ভাইস চেয়ারম‌্যান, রাজনৈতিক ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিবৃন্দ দিঘ‌লিয়ার বি‌ভিন্ন ম‌ন্দির প‌রিদর্শনে গি‌য়ে তা‌দের পৃথক পৃথক মূল‌্যবান বক্ত‌ব্যে ব‌লেন, আপনারা শা‌ন্তিতে , নির্ভ‌য়ে, সৌহার্দ্য পূর্ণভাবে পূজা উৎসব পালন করুন। সরকারের প্রশাসন সার্বক্ষ‌নিক আপনা‌দের নিরাপত্তার কাজে রয়েছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা আপনাদের পাশে রয়েছে। দীর্ঘযুগ যাবৎ এই জনপদে সম্পৃতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখা যায়।

 

দিঘলিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পূজা মন্দির পরিদর্শনে

 

 

গোয়ালপাড়া স্বার্বজনীন পূজা মন্দির

পূজার শুরু থে‌কে শেষ প্রযন্ত সা‌র্বিক নিরাপত্তাই ছি‌লো দিঘ‌লিয়া পু‌লিশ প্রসাশন। কো‌নো ধর‌নের অপৃ‌তিকর ঘটনা যে‌নো না ঘট‌তে পা‌রে সেজন‌্য দিঘ‌লিয়া প্রশাসন ছি‌লো তৎপর। সকাল থে‌কে রাত প্রযন্ত সার্বক্ষ‌নিক পু‌লি‌শি টহল ও আনসার টহ‌লের ব‌্যাবস্থা ক‌রে‌ছি‌লো দিঘ‌লিয়া প্রশাসন।

প্রতিটা ম‌ন্দি‌রে প্রতিমা বিসর্জ‌নের সময় স‌ঙ্গে ছি‌লো দিঘ‌লিয়া পু‌লিশ ও আনসার সদস‌্যরা। তা‌দের সা‌র্বিক সহ‌যো‌গিতার মধ‌্য দি‌য়েই কো‌নো অপৃ‌তিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হ‌লো দিঘ‌লিয়াই শারদিয় দূর্গা উৎসব।

১১ অক্টোবর মহাষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজা। এদিন চন্ডীপাঠ, বোধন এবং দেবীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। তবে, করোনার কারণে এবার বিজয়া দশমীতে হচ্ছে না শোভাযাত্রা। বিশুদ্ধ পঞ্জিকা অনুযায়ী, দেবী দুর্গা এবার এসেছে ঘোটকে অর্থাৎ ঘোড়ায় চড়ে। ঘোড়া এমন একটি বাহন যা যুদ্ধের সময়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ঘোড়ার পায়ের শব্দও যুদ্ধেরই ইঙ্গিত দেয়। তাই পঞ্জিকা মতেই ঘোটকে আগমন মানেই ছত্রভঙ্গের কথাই বলা হয়। অর্থাৎ এই সময়ে সম্ভাবনা থাকে যুদ্ধ, অশান্তি, হানাহানির। পঞ্জিকা বলছে, মা দুর্গার এবার দোলায় গমন। দোলায় গমনের ফলাফল হল মড়ক লাগা।
এর আগে বেশ কিছু বিধিনিষেধও প্রদান করা হয়।

মন্ডপে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি সীমিত করা ও সন্ধ্যায় আরতির পরই বন্ধ করে দেয়া হয় পূজামন্ডপ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতাও সীমিত করা হয় ধুনুচি নাচের।

মহিষাসুরের সঙ্গে ৯ দিন ৯ রাত যুদ্ধের পর দশম দিনে জয়ী হন দেবী দুর্গা। এজন্যই বিজয়া। সেই লোকাচার বাংলার ঘরে ঘরে সিঁদুর খেলা হিসেবে পরিণত হয়েছে। সিঁদুর খেলার পাশাপাশি চলে কোলাকুলিও।

সেনহাটী শিববাড়ি স্বার্বজনীন পূজা মন্দির

বিসর্জনের দিনে শুক্রবার ১৫ অক্টোবর সকালে শুরু হয় দেবী দুর্গার বিজয়া দশমী পূজা। সকাল ৯টা ১১ মিনিটের মধ্যে দেবী দুর্গার বিজয়া দশমী বিহিত পূজার মাধ্যমে পালিত হয় দশমী।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে এই দিনে আবেগ ও মন খারাপ মিশ্রিত একটি অনুভূতি সৃষ্টি হয়। দশমী এলেই তাদের মনে আসে মায়ের ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা। অপেক্ষায় থাকতে হবে আরও একটি বছর। সাধারণত দুর্গাপূজা শেষ হয় দশমীতে। এই দিনেই বিসর্জন দেওয়া হয় দেবী দুর্গার প্রতিমা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top