ভারতের বিদায়, সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড

download-3.jpg

তবে আফগানিস্তান লড়তে জানে। প্রাথমিক বিপর্যয়ের পরও তারা লড়াই করল। সেটি অবশ্য সম্ভব হয়েছে নাজিবুল্লাহ জাদরানের কারণেই। দলের এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান বাকিদের আসা-যাওয়ার মিছিলেও ছিলেন দারুণ আক্রমণাত্মক। কিউইদের চোখে চোখ রেখে লড়লেন তিনিই। ৪৮ বলে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় তাঁর ব্যাট থেকে এল ৭৩ রান। মারমুখী মেজাজে ব্যাটিং করতে করতেই তিনি ফিরলেন বোল্টের বলে তুলে মারতে গিয়ে। জিমি নিশাম কোথা থেকে উড়ে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিলেন অসাধারণ এক ক্যাচ। লড়াইটা একাই জারি রেখেছিলেন জাদরান। তাঁকে এক পাশে সরিয়ে রাখলে আফগানিস্তান ব্যাটিংয়ে বলার মতো স্কোর গুলবাদিন নাইব আর মোহাম্মদ নবীর। তা–ও সেই দুটি ইনিংসকে ঠিক টি-টোয়েন্টি মেজাজের বলা চলে না। গুলবাদিন ১৮ বলে করেছেন ১৫, নবী ২০ বলে ১৪। এরপর করিম জানাত, রশিদ খানরা বলার মতো কিছু করে দেখাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে আফগানরা ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৪ রানের বেশি এগোতে পারেনি।

নিউজিল্যান্ডের বোলাররা দারুণ সহযোগিতা পেয়েছেন তাঁদের ফিল্ডারদের। নিজেরা তো ভালো বোলিং করেছেনই, ফিল্ডাররা একটি ক্যাচও মাটিতে পড়তে দেননি। লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে কীভাবে যেন লুফে নিয়েছেন সব কটি সুযোগই। অনেক সময় নিশ্চিত ছক্কাও বাঁচিয়েছেন। ড্যারিল মিচেল যেভাবে একটি ছক্কা বাঁচালেন হাওয়ায় ভেসে—জয় তো এমন একটি দলকেই সবচেয়ে ভালো মানায়।

১২৫ রান তাড়া করতে নেমেও যে নিউজিল্যান্ডকে আফগান বোলিং খুব বেশি ভুগিয়েছে, ব্যাপারটা এমন নয়। আসলে জয় তুলে নেওয়ার জন্য যা যা করা দরকার, কিউই ব্যাটসম্যানরা সেগুলোই করেছেন। খুব বেশি আক্রমণাত্মক হওয়ার তো প্রয়োজন ছিল না এ ম্যাচে, ছিল না ঝুঁকি নেওয়ার। অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসন মাথা ঠান্ডা রেখে ৪২ বলে ৪০ রানের একটা ইনিংস খেলেই দলকে নিয়ে গেলেন জয়ের বন্দরে। ডেভন কনওয়েও কম যাননি। তিনিও যোগ্য সঙ্গী হয়ে ছিলেন উইলিয়ামসনের। অপরাজিত ছিলেন ৩২ বলে ৩৬ রান করে।

এ দুজন ৫৫ বলে ৬৭ রানের এক জুটি গড়েই খেলাটা শেষ করে দিয়েছেন। আসলে ইনিংসে কখনোই মনে হয়নি নিউজিল্যান্ড ম্যাচটা হারতে পারে। ওপেনিং জুটিতে মার্টিন গাপটিল আর ড্যারিল মিচেলের জুটিতে এসেছে ১৯ বলে ২৬। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে গাপটিল আর উইলিয়ামসন তোলেন ৩৪ বলে ৩১। এ ম্যাচ জেতার জন্য এর বাইরে আসলে করার কিছুই ছিল না।

আফগানদের আশা জাগিয়েছিলেন মুজিব-উর-রেহমান। তিনি নিউজিল্যান্ডের ২৬ রানের মাথায় ফেরান মিচেলকে, উইকেটকিপার মোহাম্মদ শেহজাদের ক্যাচে। এরপর রশিদ খান ৫৭ রানের মাথায় গাপটিলকে ২৩ বলে ২৮ করার পর বোল্ড করলে সবাই একটু নড়েচড়ে বসেছিলেন এই যা, কিন্তু যে দলে উইলিয়ামসন থাকেন, তাদের আসলে ১২৪ রান তাড়া করতে গিয়ে খুব একটা দুশ্চিন্তায় না ভুগলেও চলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top